Web 3.00 যেভাবে আগামী দিনে ইন্টারনেটের কনসেপ্ট বদলে দিবে



আমরা সবাই ইন্টারনেটের সাথে পরিচিত।একে অপরের সাথে ঘরে বসেই যোগাযোগের মাধ্যম হচ্ছে ইন্টারনেট। আজকের দিনে দাঁড়িয়ে ইন্টারনেটের দৈনিক ইউজার ৫.৩০ বিলিয়ন ছাড়িয়ে গেছে।

আচ্ছা আমরা একটু ঠান্ডা মাথায় চিন্তা করি ইন্টারনেটে সচরাচর আমরা কি করি।কোন তথ্য দরকার উইকিপিডিয়া তে ঢু মেরে দেখি।বিনোদন দরকার? ইউটিউবে ভিডিও দেখতে বসি। বসে থাকতে ভালো লাগছে না?কথা বলতে আমরা ব্যবহার করি ফেসবুক, মেসেঞ্জার, হোয়াটসঅ্যাপ ইত্যাদি জিনিস।

একটু চিন্তা করলে দেখবেন ইন্টারনেটে আমরা যা করি সেগুলো সাধারনত দুই ধরনের। একটাতে আমরা শুধু একপক্ষীয় অ্যাক্টিভিটি করি। যেমন কোন একটা স্ট্যাটিক ওয়েবপেজের লেখা পড়া। আবার কোন কোন জায়গায় আমাদের কাজগুলো হয় দ্বিপাক্ষিক। আপনি মেসেঞ্জারএ কারো সাথে চ্যাটিং করছেন সেটি দ্বিপাক্ষিক। অফিসের মিটিং জুমের মাধ্যমে করে নিচ্ছেন সেটিও দ্বিপাক্ষিক।

Web 2.0 এর অন্যতম অসুবিধা হচ্ছে দ্বিপাক্ষিক ইন্টার‌অ্যাকটিভের মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছে তৃতীয় কোন পক্ষ। আপনি ফেসবুক ব্যবহার করছেন ফেসবুক কিন্তু আপনার তথ্য হাতিয়ে নিতে পারে। ফেসবুক অ্যাপ যে ব্যবহার করছেন, সেখানে যে স্টোরেজ পারমিশন enable করা সেখান থেকে ফেসবুক কিন্তু আপনার ছবি থেকে শুরু করে বিভিন্ন দরকারি তথ্য হাতিয়ে নিতে পারে।
আবার ফেসবুকে রয়েছে নিজস্ব অ্যালগরিদম। ফেসবুক চাইলে আপনাকে ম্যানিপুলেট করতে পারে।আপনাকে কোন একটা বিষয় নিয়ে ফোর্স করতে পারে দেখার জন্য। কোন বিশেষ বিষয়ে জনমত তৈরি করতে আপনাকে ম্যানিপুলেট করতে পারে।এর ফলে কোন ইভেন্ট এর ফলাফল ও কিন্তু চেন্জ হতে পারে। এর বাস্তব ঘটনাও কিন্তু ঘটেছে।
যুক্তরাজ্যের নির্বাচনে ম্যানিপুলেট করার জন্য অভিযোগ রয়েছে সেই “ক্যামব্রিজ অ্যানালিটিকা” ফার্মকে যারা আন‌অথোরাইজভাবে ফেসবুকের তথ্য হাতিয়ে নিয়ে নির্বাচনে ম্যানিপুলেট করেছে।আবার ফেসবুকে রয়েছে বুষ্ট সিস্টেম। এর ফলে আপনার নিউজফিডে ফেসবুক ইচ্ছে মতো boosted বিজ্ঞাপন দেখায়। আপনার সেগুলো না দেখা ছাড়া উপায় থাকে না।

কিন্তু চিন্তা করুন একটি end to end encryption নিয়ে। যেখানে আপনি আর আপনার দ্বিপাক্ষিক ইন্টার‌অ্যাকটিভের বিপরীত প্রান্তে থাকা মানুষের মধ্যে কোন তৃতীয় পক্ষ নেই।আপনাদের যোগাযোগে আড়ি পাতার সুযোগ নেই। আপনারা যোগাযোগ করছেন decentralized ইন্টারনেট দ্বারা যেখানে আপনি আর আপনার বিপরীত প্রান্তে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষের মধ্যে কোন মালিকানাধীন সার্ভার নেই।আপনাদের মধ্যকার তথ্য ফেসবুক, টুইটারের মতো সার্ভারে সংরক্ষণ হচ্ছে না।ঠিক এ ধরনের একটি ধারনা নিয়েই গড়ে উঠবে আগামী দিনের web 3.00

প্রথমে জেনে নেয়া যাক web 1 ও ২.০ এর ইতিহাস নিয়ে

১৯৬০ এর দিকে মার্কিন সেনাবাহিনীর গবেষণা সংস্থা অ্যাডভান্সড রিসার্চ প্রজেক্টস এজেন্সি বা আরপা (ARPA) পরীক্ষামূলকভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কিছু বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণাগারের মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলে। প্যাকেট সুইচিং পদ্ধতিতে তৈরি করা এই নেটওয়ার্ক আরপানেট (ARPANET) নামে পরিচিত ছিল। এটাই হলো ইন্টারনেট এর জন্মের ইতিহাস। এরপর ১৯৮৯ সালের দিকে এই আরপানেটকে ইন্টারনেট নামে সবার জন্য উন্মুক্ত করা হয়। ১৯৯০ সালের দিকের এই ইন্টারনেটকে web 1.0 বলা হত।

এটি কিন্তু মডার্ন ইন্টারনেটের মতো ছিল না।আজকের সময়ে দাঁড়িয়ে আমরা যে ইন্টার‌অ্যাকটিভ সুবিধা উপভোগ করি web 1.00 এ কিন্ত সে সুযোগ ছিলনা।সেটি ছিল অনেকটা ওয়ান‌ওয়ে।রেডিও শুনা,নিউজপেপার কিংবা আর্টিকেল পড়াকে বলা যায় মোটামুটি 1.0 ইন্টারনেট এর ব্যবহার।তবে দ্রুত মানুষজনের মধ্যে ইন্টার‌অ্যাক্ট করার প্রয়োজন পড়লো।মধ্যকার যোগাযোগ ব্যবস্থা বৃদ্ধির তাগাদা দেখা দিল। তখন থেকে জন্ম নেই web 2.00

এ ভার্শন এসেই অনেকটা নাটকীয়ভাবে ইন্টারনেটের মোড় ঘুরে গেল। মানুষ জন‌ দেখল তারা তাদের মনের কথা ঘরে বসেই বলতে পারছে। এছাড়া একজন আরেকজনের সাথে নির্বিঘ্নে অডিও থেকে শুরু করে ভিডিওতে কথা বলতে পারছে। এ সময়টিকে বলা যায় মোটামুটি ইভোল্যুশন এর যুগ। একের পর এক জনপ্রিয় মাধ্যম দিকে দিকে গড়ে উঠছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুক থেকে শুরু করে ভিডিওতে কথা বলার skype.মানুষজন এতদিন শুধু ইন্টারনেটকে একটা one way মাধ্যম হিসেবে জানতো।এখন এর বাস্তব প্রয়োগ শুরু হলো। ধীরে ধীরে মানুষজন দেখলো কাগজে কলমে তথ্য সংরক্ষণ করে তথ্য জানার চাইতে ইন্টারনেটে তথ্য জানা আরো সহজ ও দ্রুত। ধীরে ধীরে ইন্ডাস্ট্রিতের মানুষ জন তাদের ডাটাবেস কাগজে কলমে সংরক্ষণ করার চেয়ে ইন্টারনেট ব্যবহার করতে শুরু করল। এত বিশাল তথ্য ভান্ডার সংরক্ষণের জন্য চাই ইন্টারনেট স্টোরেজ। আর তাই এ সময় প্রচুর পরিমানে সার্ভার ফার্ম গড়ে উঠেছে‌।

কিন্তু ধীরে ধীরে মানুষ জন বুঝতে শুরু করল এই internet web 2.00 এর বেশ ভয়াবহরকম নেগেটিভ সাইড আছে। গোটা ইউজারদের তথ্য শুধুমাত্র কিছু মানুষজন যারা সার্ভারের দায়িত্ব বা মালিকানায় আছে তাদের হাতে জিম্মি। আপনার আপলোড দেয়া ছবি, ইন্টারনেট ব্যবহারের হিস্টরি থেকে ক্রেডিট কার্ডের তথ্য সব তাদের সার্ভারে রেজিস্টার হচ্ছে।তারা চাইলেই আপনার তথ্যের মিস‌ইউজ করতে পারে। ধীরে ধীরে মানুষের আশংকায় সত্যিতে পরিনত হলো। মানুষ দেখল হ্যাকার সার্ভার এর bug এর সুযোগ নিয়ে কিছু মানুষের ক্রেডিট কার্ড খালি করে নিল। মানুষ জনের ছবি deepfake তৈরীতে ব্যবহার হতে থাকল। বড় বড় ইভেন্টের ফলাফল manipulation করা হলো ফেক তথ্য আর অ্যালগরিদম দ্বারা। মানুষ জন দেখল মার্কেটপ্লেসের মিস‌ইউজ হতে। যারা boost করে তাদের প্রোডাক্ট বেশি মানুষের কাছে পৌছাল। যারা করল না তাদের প্রোডাক্ট মানুষের কাছে engage ই করল না। সবাই বুঝতে শুরু করল তাদের কিছু করার থাকছে না কারন সার্ভার শুধুমাত্র কিছু মানুষের হাতে বন্দি। এসকল সমস্যা থেকে উত্তরণের জন্য‌ই নতুন ধারনা আসছে web 3.00

Web 3.00 এর কনসেপ্ট

কেমন হবে ওয়েব 3.00 এর কনসেপ্ট? এটি হবে সম্পূর্ণ decentralized. মানুষ জনের মাঝখানে থাকবে না কোন মালিকানাধীন সার্ভার যাতে তথ্যের অপব্যবহার কেউ করতে পারে। মানুষ জনের মধ্যে যে যোগাযোগের সার্ভার হবে সেটি গড়ে উঠবে blockchain দ্বারা। এটি হচ্ছে এমন একটা প্রযুক্তি যেখানে hacking করা প্রায় অসম্ভব ধরনের ব্যাপার। কারন Blockchain প্রযুক্তিতে আছে ইউনিক hash, প্রুফ অফ ওয়ার্ক, পিয়ার টু পিয়ার নেটওয়ার্ক, শেয়ারড লেজার ইত্যাদি বিষয়।
এখানে প্রাইভেসি থাকবে টপ নচ কোয়ালিটির। কারন এখানে ব্যবহার করা অ্যাপগুলো হবে DApps বা decentralized App. আপনার তথ্য থাকবে এখানে সুরক্ষিত। যেহেতু পুরো ইন্টারনেট ব্যবস্থা হবে blockchain technology দ্বারা কাজেই আপনার ডিজিটাল footprint হবে আরো anonymous.

এক‌ই সাথে গড়ে উঠবে Defi ব্যাংক ব্যবস্থা‌। এখানে ডিজিটাল মুদ্রার ব্যবহার হবে। ক্রিপ্টোকারেন্সি হবে পেমেন্ট এর গেট‌ওয়ে। এতে আপনার কোন প্রকার ট্যাক্স লাগবে না কারন ক্রিপটোর লেনদেন সবসময় anonymous রাখা যায়। global accessibility খুবই উচ্চ গতিতে ব্যবহার হবে।

আপনারা হয়তো খেয়াল করেছেন দেশের সরকার চাইলেই কোন ওয়েবসাইট বা অ্যাপ ব্যান করে সে দেশের মানুষ জনদের restricted করে রাখতে পারে। কিন্তু web 3.0 এর সম্পূর্ণ কনসেপ্ট বদলে দিবে। ডিসেন্ট্রালাইজ ব্যবস্থার যুগে কোন ওয়েবসাইটে প্রবেশ করতে বাধা থাকবে না।ফলে মানুষ জন ইচ্ছে মতো তাদের দরকারি ওয়েবসাইটে অ্যাকসেস নিতে পারবে।

এর কারনে Vpn এর ব্যবহার চরমভাবে কমে যাবে। মানুষ জন তাদের সৃষ্টিশীল আর্ট‌ওয়ার্ককে নিজের আয়ত্বে নিতে পারবে। কারন web 3.00 ইউজারদের অ্যাসেটের নিরাপত্তা প্রদান করে।Non fungible Token রূপে মানুষজনের ছবি, পেইন্টিং এর ব্যবহার বৃদ্ধি পাবে।

ইন্টারনেটে গড়ে উঠবে decentralized autonomous organizations বা Dao.কনটেন্ট মনিটাইজেশন হবে আরো উন্নত। মানুষ তার সৃজনশীল কাজের royalty এর পূর্নাঙ্গ সুবিধা নিতে পারবে কোন মধ্যসত্তভোগীদের হাতে না দিয়েই।মার্কেটপ্লেসে আমূল পরিবর্তন আসবে।peer to peer connection দ্বারা‌ মানুষ জনের মধ্যে deal গড়ে উঠবে।আপনারা যারা মার্কেটপ্লেসে কাজ করেন যেমন fiver তারা নিশ্চয়‌ই connect সিস্টেম দ্বারা পরিচিত।


এখানে peer to peer কানেকশন থাকায় আপনার ranking হবে আরো বেশি অর্গানিক।এক‌ইসাথে micropayment এর সুবিধা বাড়বে।যারা কন্টেন্ট ক্রিয়েটর তাদের জন্য থাকছে আরো ইমপ্রুভড এলগরিদম। এর দ্বারা মানুষ জন তাদের পছন্দমতো কন্টেন্ট এর personalization করতে পারবে। তৃতীয় পক্ষ দ্বারা আপনি ম্যানিপুলেট হবেন না। এতে অনৈতিকভাবে ফলাফল অন্যদিকে মোড় নেয়ার প্রবনতাও কমবে।
প্রযুক্তি একটি ক্রমবর্ধমান মুভমেন্ট। যে স্ট্যাটিক ওয়ান ওয়ে দ্বারা ইন্টারনেটের শুরু হয়েছিল সেটিই আজকের যুগে দাঁড়িয়েছে দ্বিমুখী ইন্টার‌অ্যাকটিভ প্ল্যাটফর্ম। ভবিষ্যতে ইন্টারনেটের রিভ্যুলেশন দেখতে চলেছে আছকের বিশ্ব। আর এর মাধ্যম হবে নতুন ইন্টারনেটের কনসেপ্ট Web 3.0 এবং blockchain technology এর ভিত্তি করে

আজ এ পর্যন্তই।দেখা হবে নতুন কোন বিষয় নিয়ে



Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *