একটা কোম্পানি যেভাবে আপনার ডাটার ব্যবহার ও অপব্যবহার করতে পারে।


আসসালামু আলাইকুম।

আজকে লিখতেছি ডাটা ও প্রাইভেসি নিয়ে ২য় পোস্ট। ১ম পোস্টে লিখেছিলাম কিভাবে একটা কোম্পানি বিভিন্ন সার্ভিসের মাধ্যমে আমাদের তথ্য সংগ্রহ করে থাকে। যারা পড়েন নি বা মিস করে গেছেন তারা এখানে ক্লিক করে পড়ে নিতে পারেন।

আজকে লিখতেছি যেকোন কোম্পানি আমাদের ডাটা গুলো কিভাবে ব্যবহার করে , কিভাবে তারা এগুলো থেকে ও কেন আমাদের সতর্ক হওয়া একান্ত জরুরি।

ডাটা প্রোফাইলিংঃ

ধরুন যদি আমি বলি ২৮, ৩০, ৩২, ৪০, ২২ । তাহলে মনে করতে পারেন কিছু অর্থহীন সংখ্যা। কিন্তু যদি বলি কোন স্থানের কয়েকদিনের তাপমাত্রা, তাহলে কিন্তু সংখ্যাগুলো অর্থবহ হয়ে যায়। এবং এখন আমরা চাইলে এখান থেকে সর্বোচ্চ, সর্বনিম্ন বা গড় তাপমাত্রা বের করে নিতে পারি বা ওই কয়েকদিনের কোন নির্দিষ্ট দিনে তাপমাত্রা বলতে পারি। একইভাবে আমাদের বিচ্ছিন্ন ডাটা কোন কাজের না। তাই এই ডাটাগুলোকে কোম্পানি পর্যবেক্ষণ করে , এবং দরকারী তথ্যগুলোকে আলাদা করে এবং ইউজার অনুযায়ী সাজিয়ে রাখে যাতে করে তাদের অ্যালগরিদম সহজেই বুজতে পারে কোন ইউজার কি পছন্দ করে কোথায় থাকে ইত্যাদি। আরও বুঝতে পারে বেশিরভাগ ইউজার কি পছন্দ করে, কতক্ষণ তাদের সার্ভিস ব্যবহার করে ইত্যাদি। ডাটাকে এভাবে সাজিয়ে ব্যবহার উপযোগী করাকেই ডাটা প্রোফাইলিং বলে।

ডাটার ব্যবহারঃ

একটা সময় ছিলো যখন মানুষকে পণ্য হিসেবে ব্যবহার করা হত বা বেচাকেনা করা হত। সময় পাল্টেছে কিন্তু এখন আর মানুষ বেচা কেনা না হলেও চলে মানুষের ডাটা বেচা কেনা চলে। কেননা প্রযুক্তির যুগে কোন কোম্পানির কাছে ডাটাই সবচেয়ে দামি জিনিস।

ডাটার ব্যবহার কোন কোম্পানি ভালো ও খারাপ উভয় ভাবেই ব্যবহার করতে পারে। চলুন দুটোই দেখে নেই।

ভালো/প্রয়োজনীয় দিকঃ

১। প্রোডাক্ট ও সার্ভিসের মান বৃদ্ধিঃ প্রয়োজনীয় ডাটা ছাড়া একটা কোম্পানি কখনোই তাদের ইউজারদের চাহিদা অনুযায়ী তাদের প্রোডাক্ট ও সার্ভিসের মান বৃদ্ধি করতে পারে না। তাই ডাটা সংগ্রহ , সংরক্ষণ ও ব্যবহার তাদের জন্য প্রয়োজনীয় হয়ে পরে।

২। পার্সোনালাইজেশনঃ স্বাভাবিক ভাবেই আপনি কোন সার্ভিস বা প্রোডাক্ট রেগুলার ব্যবহার করবেন যেটায় আপনার প্রয়োজনীয় ও পছন্দসই জিনিস থাকবে। আর আপনার পছন্দ ও অপছন্দ অনুযায়ী আপনাকে সার্ভিস দেওয়ার জন্য প্রায় সকল কোম্পানি ডাটা ব্যবহার করে থাকে।

৩। টার্গেটেড এডভার্টাইজিংঃ ফ্রিতে সার্ভিস দেওয়া প্রায় সকল কোম্পানির আয়ের মুল উৎস এডভার্টাইজিং। কিন্তু আপনার ইন্টারেস্ট অনুযায়ী যদি আপনাকে এড দেখানো না হয় তাহলে স্বাভাবিক ভাবেই আপনি ওই এড দেখে এডে দেখানো প্রোডাক্ট এর প্রতি আগ্রহী হবেন না। তাহলে কিন্তু যারা এড দেখাচ্ছে তাদের কোন ফায়দা হচ্ছে না। তাই টার্গেটেড অডিয়েন্স এর ইন্টারেস্ট জানার জন্য ডাটা ব্যবহার করতে হয়।

খারাপ দিকঃ

আপনি যে কোম্পানিকে বিশ্বাস করেন তাদের কাছে আপনার ডাটা থাকলে আপনি নিশ্চিত থাকতে পারেন কিন্তু আপনি অবশ্যই চাইবেন না আপনার ব্যক্তিগত তথ্য কোথাও বেচাকেনা হোক বা আপনার অজান্তেই কোন হ্যাকার সেটার অপব্যবহার করুক। ইদানিং Data Breaches খুবই অহরহ হচ্ছে এবং এইসকল ডাটা ব্ল্যাকমার্কেটে বিক্রিও হচ্ছে। Data Breaches এর কারনে আমাদের ফোন নাম্বার, এড্রেস, ইমেইল ইত্যাদি হ্যাকারদের কাছে যেতে পারে যার ফলে দৈনন্দিন স্প্যাম কল , মেসেজ বা মেইল পেয়ে থাকি। যেটা ইদানিং আমাদের দেশেও বৃদ্ধি পেয়েছে।

 

তাছাড়া প্রোডাক্টের জনপ্রিয়তা অনুযায়ী কোম্পানি একই সার্ভিসের জন্য ভিন্ন স্থানে ভিন্ন দাম ও কোয়ালিটি নির্ধারন করে যা অনেক সময় ন্যায্য হয়ে ওঠে না।

 

আবার আপনার ইন্টারেস্ট অনুযায়ী কোন কোম্পানি আপনাকে এমন তথ্য দেখাতে পারে যেটা আপনার পছন্দসই কিন্তু নিরপেক্ষ না হয়ে এক পাক্ষিক হতে পারে। এ নিয়ে আলাদা আরেকটা পোস্ট লেখার ইচ্ছা আছে।

 

 

তাই কোন কোম্পানিকে আমাদের ডাটা দেওয়া আগে নিশ্চিত হওয়া দরকার যে তাদের কাছে আমাদের ডাটা সুরক্ষিত থাকবে কিনা এবং যে ডাটা তারা গ্রহন করছে এটা দিয়ে আমাদের কোন ক্ষতি করতে পারবে কিনা। যদিও বিষয়টা অনেক জটিল তারপরেও আমাদের ডাটা দেওয়া সম্পর্কে সচেতন হওয়া উচিৎ, এবং অতিরিক্ত তথ্য দেওয়া থেকে বিরত থাকা দরকার।

অনেকদিন পর পোস্ট লিখতেছি। ভুল ভ্রান্তি হওয়াটা স্বাভাবিক। কোন ভুল ইনফরমেশন থাকলে জানিয়ে দিবেন বা কোন সাজেশান থাকলে বলে দিতে পারেন। ইমপ্রুভ করার চেষ্টা করব



Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *