আই ও টি (পর্ব -২) আই ও টি এর সুবিধা, অসুবিধা


গত পর্বে আমরা আই ও টি এর গঠন প্রনালী এবং আই ও টি এর সংজ্ঞা জেনেছিলাম। এই পর্বে আমরা আই ও টি ডিভাইস এর গঠন প্রনালী এর কিছু বাকি অংশ, সুবিধা, অসুবিধা, কিছু অবাক করা উদাহরণ লিখে পোস্টটি কম্পলিট করে ফেলব। গত পর্বের মধ্যেই পোষ্টটি কম্পলিট করতে চেয়েছিলাম। কিন্ত পোস্টটি বেশ বড় হয়ে যাওয়ায় আর বেশি কিছু লিখতে পারিনি। গত পর্বে আমরা আই ও টি ডিভাইস গঠনের জন্য তিনটি দরকারী উপাদান এর বর্ননা দিয়েছিলাম।

এরপর আরো একটি উপাদান এর প্রয়োজন আছে। এতক্ষণ যেই ডিভাইস গুলোর কথা বলেছি সেগুলোর মাধ্যমে আমরা আমাদের মনের ভাব আমাদের আই ও টি ডিভাইস এর কাছে প্রকাশ করতে পারব। এবং আই ও টি ডিভাইসকে নিজের কাজ সঠিকভাবে সম্পন্ন করার জন্য প্রয়োজনিয় নির্দেশনা দিতে পারব। কিন্ত একটি আই ও টি ডিভাইস এর সঠিকভাবে নিজের কাজ সম্পন্ন করার জন্যে শুধুমাত্র আমাদের নির্দেশনা গ্রহন করা অথবা আমাদের মনের ভাব প্রকাশ করাই প্রয়োজন নয়। আমাদের নির্দেশনা গ্রহন করার পাশাপাশি তাদের আমাদেরকে অথবা অন্য যেকোনো আই ও টি ডিভাইসকে তার বাক্তিগত নির্দেশনা দেওয়ার অথবা তার মনের ভাব আমাদের সাথে শেয়ার করার ক্ষমতাও থাকতে হবে।

যেমন ধরুন আপনি সকালে ব্রাশ করতে বাথরুমে যাবেন। তাই আপনার ব্রাশ আপনার জন্য পেস্ট লাগানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে কিন্ত এমন সময়ে সে দেখলো যে, পেস্ট শেষ হয়ে গেছে। কেসের মধ্যে পেস্ট নেই। তো এখন কি করার?

এখন আপনার ব্রাশ এবং আপনার ব্রাশ এর কেস জানে যে আপনার বাথরুম এ পেস্ট নেই। কিন্তু সেটা আপনি জানেন না। তাই আপনার ব্রাশের জন্য একটা বড় দায়িত্ব হচ্ছে যে আপনাকে অথবা অন্য কোনো আই ও টি ডিভাইস কে পেস্ট না থাকার ব্যাপারটি জানানো। তাই ব্যাপারটি জানানোর জন্য আপনার ব্রাশ এর কথা বলার ক্ষমতা বা মেসেজ করার ক্ষমতা বা কোনো ভাবে মনের ভাব প্রকাশ করার ক্ষমতা থাকতে হবে।

একটা জড়বস্তুকে কথা বলানোর অথবা মনের ভাব প্রকাশ করানোর জন্য যেটা প্রয়োজন সেটা হচ্ছে একটা সফটওয়্যার। যা এখনও প্রস্তুত হয়নি। একটি আই ও টি ডিভাইস কে সঠিক ভাবে কাজ করানোর জন্য আই ও টি ডিভাইস এর মধ্যে এমন একটি সফটওয়্যার তৈরি করে রান করে দিতে হবে, যেন সেই ডিভাইসটি মানুষের সাথে খুব সহজেই কথাবলা অথবা মনের ভাব প্রকাশ করতে পারে। এবং ডিভাইস এর ভাষা যেন মানুষ বুঝতে পারে। এমন একটি সফটওয়্যার তৈরি করতে পারলে একটি আই ও টি ডিভাইস তৈরি করা সম্ভব।

আই ও টি এর সুবিধাসমুহ

আই ও টি একটি কাল্পনিক এবং ভবিষ্যত প্রজেক্ট। তাই এর সুবিধাগুলো সরাসরি বলা যায় না। শুধুমাত্র ধারণা করে বলা যায়। আমার পক্ষে যততুকু সম্ভব আমি ধারনা করে জানিয়ে দিচ্ছি:-

১. মানুষের ছোট বড় বেশিরভাগ কাজ আই ও টি ডিভাইস নিজ দায়িত্ব নিয়ে করবে। ফলে মানুষের জিবনযাত্রা সহজ হয়ে যাবে।

২. যেসব কাজ গুলো মানুষের পক্ষে করা খুবই ঝুকিপূর্ণ আহত এবং মৃত্যুর সম্ভাবনা বেশি থাকে সেসব কাজগুলো আমরা আই ও টি ডিভাইস এর মাধ্যমে করতে পারব। আই ও টি ডিভাইস গুলো সেই কাজ গুলো খুব সহজেই নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে।

৩. আমরা অনেক সময়ে অনেক কাজ করতে ভুলে যাই। যার ফলে পরবর্তীতে আমাদের সেই কাজের জন্য আফসোস করতে হয়। আই ও টি ডিভাইস তৈরি হবার পর থেকে কোনো কাজ ভুলে যাওয়ার কারনে সেই কাজের জন্য পরে আর আফসোস করতে হবেনা। আপনার আই ও টি ডিভাইস গুলো নিজে থেকেই আপনার ভুলে যাওয়া সেই কাজের কথা মনে করিয়ে দিবে।

আই ও টি এর অসুবিধা সমুহ
আই ও টি একটি কাল্পনিক এবং ভবিষ্যতের প্রজেক্ট হওয়ার কারনে আই ও টি এর অসুবিধা গুলোও সরাসরি বলা যায়না। ইহাও শুধুমাত্র ধারণা করা যায়। অসুবিধা গুলো নিম্নরুপ:-

১. মানুষ অলস হয়ে যাবে। যেকোনো ছোট খাটো কাজও মানুষ নিজে করতে চাইবে না। মানুষের প্রতিটি কাজের জন্য মানুষ আই ও টি এর উপর নির্ভর থাকবে।

২. মানুষ নিজে কোনো দায়িত্ব নিবে না। সমস্ত কাজ আই ও টি এর উপর ছেড়ে দিবে। ফলে কোনো এক আই ও টি ডিভাইস নষ্ট হয়ে গেলে মানুষ খুবই ভোগান্তিতে পড়বে।

৩. আমাদের ফোন গুলোর রেম এর উপর যখন বেশি পরিমানে জায়গার চাপ অথবা কাজের চাপ পড়ে তখন আমাদের ফোন গুলো হ্যাং করা শুরু করে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে ফোনটি কাজ করা বন্ধ করে দেয়। আই ও টি ডিভাইস গুলোর মধ্যে এমনটা হবার সম্ভাবনা বেশি। কোনো ডিভাইস এ কাজের চাপ বেশি পরিমানে দেওয়া হলে সেটা কাজ করা বন্ধ করে দিবে।

আই ও টি এর কয়েকটি বাস্তব উদাহরণ

উদাহরণ দিয়ে বলতে গেলে প্রথমে ঘড়ির একটি উদাহরণ দেওয়া যাক। আজকাল প্রায় অনেক লোকজন স্মার্ট ওয়াচ ব্যবহার করে। আমাদের স্মার্ট ওয়াচ আমাদের পুরো শরীর এর মনিটরিং করতে পারবে। শরিরের তাপমাত্রা মেপে সেটা খারাপ অবস্থা হলে আটোমেটিক সেটা আপনার ব্যাবহৃত মোবাইল ফোনে যাবে। মোবাইল ফোন থেকে সেটা অটোমেটিক ডাক্তার এর নিকট কল অথবা মেসেজ আকারে এসে পড়বে।

এরপর ডাক্তার সেটা চেক করল। প্রেস্ক্রিপপ্সন এর ছবি তুলে পাঠিয়ে দিল। অথবা আপনার হেলথ কন্ডিশন খারাপ দেখলে কোনো এম্বুলেন্সকে জানিয়ে দিল। এবং এম্বুলেন্সও আপনার বাসায় চলে আসল আপনার অজান্তেই। এইভাবে আই ও টি ডিভাইস আমাদের কাজে আসবে।

এবার দ্বিতীয় উদাহরণ এ আসি। মনে করুন আপনি অফিস থেকে বাসায় আসছেন। বাসায় খুব কাছাকাছি আসার মুহুর্তে আপনার ফোন থেকে আপনার বাসার ফোনে নোটিফিকেশন চলে গেল যে, বাসার মালিক আসছে। সকল আই ও টি ডিভাইস নিজের কাজের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। আপনার গোসল করার পানি অটোমেটিক তৈরি হচ্ছে।

অটোমেটিক ঘরের জানলা বন্ধ করে ঘরের এসি চালু হয়ে ঘরের থেকে গরম হাওয়া বের করে ঠান্ডা হাওয়া প্রবেশ করছে। এবং আপনার রাতের খাবার অটোমেটিক প্রস্তুত হচ্ছে। এইভাবে আমি অসংখ্য উদাহরণ দিতে পারব। আমার উদাহরণ আর শেষ হবেনা। তাই আমি আমার উদাহরণ এখানেই শেষ করে দিচ্ছি।

শেষকথা
আমাদের দেশ এ এখন আই ও টি এর অবস্থা খুবই দুর্বল। কারণ এদেশের ৯০ শতাংশ লোকই এখনও আই ও টি ডিভাইস এর ব্যাপারে জানেনা। তবে একটা ভাল দিক হছে এদেশে এখন সরকারের অনুমতি আছে যে, এদেশের লোকেরা দেশে আই ও টি ডিভাইস কেনা-বেচা এবং ব্যবহার করতে পারবে। তাছাড়া আমাদের দেশের আরও একটা বড় সমস্যা হচ্ছে এদেশের ইন্টারনেট খুবই স্লো। এই স্লো ইন্টারনেট একটি ভাল মানের আই ও টি ডিভাইস ব্যবহার করা সম্ভব নয়।

পোস্টটি এখানেই শেষ করে দিচ্ছি। ধন্যবাদ।



Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *